২০২৪ সালে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে আট বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।
গতকাল সোমবার মাদারীপুরের রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতুব্বর (৬৮)। তাদের দুজনেরই বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায়।
সিআইডি জানায়, উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি পাঠানোর আশ্বাসে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে লিবিয়া থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙি নৌকায় করে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় মাদারীপুরের রাজৈরের আট যুবক নিহত হন।
নিহতরা হলেন—সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) এবং ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।
অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, এই চক্রটি গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে ইউরোপ বা ইতালিতে পাঠানোর নাম করে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে জরাজীর্ণ রাবারের নৌকায় তুলে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও আমরা সমন্বয় করে কাজ করছি। ইতোমধ্যে সিআইডির একটি দল ইতালি সফর করেছে।
সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার মোতালেব মাতুব্বরের বিরুদ্ধে আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ছিল এবং অবৈধভাবে মানুষ পাচারই ছিল তার প্রধান পেশা।
নিহত সজল বৈরাগীর বাবা বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানায় সিআইডি।