Thursday, Jan 15, 2026 28°C

Concise and comprehensive global coverage.

General

শরীয়তপুরে ৪৫টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার, আটক ৪

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহতের ঘটনার পর বোমা ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধারে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়েছে।আজ সোমবার সকাল থেকে বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চালানো এ অভিযানে ৪৫টি বোমা সদৃশ বস্তু, ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটকও করা হয়েছে।জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার বিলাসপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীকান্দি এলাকায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফ...

NP
Published: January 13, 2026, 03:44 PM
শরীয়তপুরে ৪৫টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার, আটক ৪

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহতের ঘটনার পর বোমা ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধারে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়েছে।

আজ সোমবার সকাল থেকে বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চালানো এ অভিযানে ৪৫টি বোমা সদৃশ বস্তু, ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটকও করা হয়েছে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার বিলাসপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীকান্দি এলাকায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত এবং একজন আহত হন। এ ঘটনায় শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে ৫৩ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

ওসি বলেন, ঘটনার পরপরই অ্যান্টি টেরোরিজম বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিম অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। বিস্ফোরকগুলো পরে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।

তিনি আরও জানান, এলাকায় আরও বোমা ও সরঞ্জাম থাকার আশঙ্কায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে যৌথ বাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করে।

অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড এবং অ্যান্টি টেরোরিজম বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট অংশ নেয়।

এ সময় ককটেল, বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, বড় হাতুড়ি, কুড়াল, মাছ মারার কোচ, বিদেশি চাকু ও একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি ফসলি জমি থেকে ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার ব্যাপারীর ছেলে সোহান ব্যাপারীর (৩২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একই ঘটনায় আহত আরমান নয়ন মোল্লা (২৫) ও মো. নবী হোসেনকে (২২) প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যাপারীকান্দি গ্রামের রহিম সরদারের ছেলে মো. নবী হোসেন ওই দিন বিকেলে মারা যান। আরমান নয়ন এখনও চিকিৎসাধীন।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বিলাসপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জাজিরা থানা পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় চার বালতি ককটেল উদ্ধার করে।

থানা সূত্র জানায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা হয়েছে।

জলিল মাদবর ও কুদ্দুস ব্যাপারী উভয়কে কারাগারেও পাঠিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তীতে কুদ্দুস ব্যাপরী জামিনে মুক্তি পেলেও জলিল মাদবর কারাগারেই আছেন।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) মো. তানভীর হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যৌথ বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান চালাচ্ছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।