কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলা সংঘর্ষের সময় বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাত ১১টায় শুরু হয়ে আজ রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন সংলগ্ন মিয়ানমার অংশের তোতার দ্বীপ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় টানা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে শিশুটিকে আঘাত করে। সে হোয়াইক্যংয়ের তেচ্ছি ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলোক বিশ্বাস দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আজ বিকেলে আলোক বিশ্বাস জানান, আহত শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'শুরুর দিকে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু সেটি সঠিক নয়। গুলিটি তার কানে লেগেছে।'
সন্ধ্যায় কিশোরীর চাচা জানান, তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকালে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মিয়ানমার দিক থেকে আসা গুলিতে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়েছে।
ওই খবরের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ব্যারিকেড দিয়ে অন্তত তিন ঘণ্টা উখিয়া–টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সংঘর্ষ থেকে পালাতে গিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গুলিবিদ্ধ ছিল।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন রোহিঙ্গাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি।
সন্ধ্যায় বিজিবি রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সীমান্ত পেরিয়ে আসা মোট ৫৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।'
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা জানান, গত দুই–তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপার থেকে বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল, তবে শনিবার রাত ১১টার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলে। এলাকায় এখনো আতঙ্ক কাটেনি।'
টেকনাফ ক্যাম্পের রোহিঙ্গা সূত্রগুলো জানায়, আরাকান আর্মি তোতার দ্বীপে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি ক্যাম্পে ড্রোন ব্যবহার করে বোমা হামলা চালায়। হামলার তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনেক সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
রোহিঙ্গা নেতারা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সীমান্তের ওপারে ব্যাপক হতাহতের খবর তারা পেয়েছেন, তবে সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।