Thursday, Jan 15, 2026 28°C

Concise and comprehensive global coverage.

General

রাতের খাবারের অপেক্ষায় ছিল ছেলেরা, পথে কুপিয়ে হত্যা বাবাকে

গত বছর যকৃতের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মাকে হারিয়েছিল তিন ভাই। এরপর পেশায় বাবুর্চি বাবা রায়হান মোল্লাকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে ছিল তারা। কিন্তু সোমবার রাতে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সেই বাবাকেও হারাল তারা।বাবাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ২৩ বছর বয়সী সাব্বির। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গের সামনে দুই ভাইয়ের সঙ্গে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি। সাব্বির বলেন, 'এক বছর আগে লিভার নষ্ট হয়ে মা মারা গেছে। আজ সন্ত্রাসীদের হাতে বাবাকে হারিয়ে আমরা এতিম হয়ে গেলাম ভাই।' কথা শেষ করার আগেই হাউমাউ করে কে...

NP
Published: January 13, 2026, 03:44 PM
রাতের খাবারের অপেক্ষায় ছিল ছেলেরা, পথে কুপিয়ে হত্যা বাবাকে

গত বছর যকৃতের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মাকে হারিয়েছিল তিন ভাই। এরপর পেশায় বাবুর্চি বাবা রায়হান মোল্লাকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে ছিল তারা। কিন্তু সোমবার রাতে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সেই বাবাকেও হারাল তারা।

বাবাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ২৩ বছর বয়সী সাব্বির। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গের সামনে দুই ভাইয়ের সঙ্গে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি। সাব্বির বলেন, 'এক বছর আগে লিভার নষ্ট হয়ে মা মারা গেছে। আজ সন্ত্রাসীদের হাতে বাবাকে হারিয়ে আমরা এতিম হয়ে গেলাম ভাই।' কথা শেষ করার আগেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন সাব্বির।

গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকায় রাস্তার ওপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয় ৫০ বছর বয়সী রায়হান মোল্লাকে। তিনি নগরীর গলাচিপার প্রয়াত মেছের আলীর ছেলে। জামতলা এলাকার হীরা কমিউনিটি সেন্টারে বাবুর্চির কাজ করতেন এবং তিন ছেলেকে নিয়ে তল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু রায়হান জানান, কয়েকজন ব্যক্তি রায়হান মোল্লাকে রাস্তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাবার ওপর হামলার খবর পেয়ে সন্তানরা প্রথমে ঘটনাস্থলে এবং পরে হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে বাবার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। রায়হানের আরেক ছেলে ফয়সাল হাসপাতালে পরিচিত একজনকে জড়িয়ে ধরে আর্তনাদ করে বলছিলেন, 'আমার বাপরে মাইরা ফালাইছে। আমাদের আর কেউ রইল না রে ভাই।'

কিছুটা শান্ত হলে ফয়সাল এই প্রতিবেদককে জানান, আগের রাতে বাবার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, 'সকালে বাবা কাজের জন্য আগেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তাই কথা হয়নি। কথা ছিল, রাতে আমরা সবাই একসঙ্গে খাব। তাই তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে বাসায় ফিরেছিলাম। কিন্তু আমাদের আর কেউ থাকল না ভাই, আমরা এতিম হয়ে গেলাম।'

নিহতের ছেলেদের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে চাষাঢ়া রেলস্টেশনে একটি অস্থায়ী খাবারের দোকান দিতে চেয়েছিলেন রায়হান মোল্লা। কিন্তু স্থানীয় রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি তাতে বাধা দেন এবং দোকান করতে হলে চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে তর্কের জেরে রাজ্জাক এর আগেও রায়হান মোল্লাকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে অভিযোগ তাদের।

সাব্বির বলেন, 'রাজ্জাক মাদক কারবারি। তার অনেক লোক আছে, ওরাও মাদকসেবী। এ কারণে আমরা আর বাড়াবাড়ি করিনি। বাবাকেও বলেছিলাম, এটা নিয়ে ওর সঙ্গে আর কথা না বলতে।' সেই শত্রুতার জেরেই রাজ্জাক দলবল নিয়ে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ তাদের।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, 'প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের পরিবারের লোকজন কয়েকজনের নাম বলেছেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।'

এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।