পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমে উঠেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। স্থানীয়ভাবে এটি 'জামাই মেলা' নামেই বেশি পরিচিত। আজ বুধবার সকালে উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলা শুরু হয়।
ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। জমে উঠে কেনাবেচা। মেলার প্রধান আকর্ষণ বিশাল আকৃতির সব দেশি মাছ।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে করে মাছ নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। স্টলগুলোতে সাজানো রয়েছে বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, গ্রাস কার্প, সিলভার কার্পসহ নানা জাতের বড় বড় মাছ।
নরসিংদীর পলাশ থেকে ১২ কেজি ওজনের রুই মাছ এনেছেন ব্যবসায়ী এমদাদুল হক মিয়া। তিনি প্রতি কেজি ৫৬০ টাকা দরে এই মাছ কেটে বিক্রি করছেন। কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে আসা রহিম মিয়া জানান, ১০ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ তিনি ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে আসা ক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'আমি আইড় অথবা বাঘাইড় মাছ কিনতে এসেছি। দরদাম করে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে আইড় মাছ কিনেছি। প্রতিবছরই এই মেলায় আসি।'
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, 'প্রতিবছরই এখানে মেলা বসে। এটি শুধু মাছ কেনাবেচা নয়, এক ধরনের সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়। কোন জামাই সবচেয়ে বড় মাছ কিনলেন, সেটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।'
মেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মাওলানা আলী হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মেলার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, আয়োজক কমিটি যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েই মেলার আয়োজন করেছে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মেলায় মাছ কিনতে আসা সৌদি আরব প্রবাসী সুলতানা রাজিয়া জানান, বছরের অন্য কোনো সময় নয়—মেলার দিন-তারিখ মিলিয়েই তিনি ছুটি নিয়ে দেশে আসেন।
মেলার আশপাশজুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক চা-স্টল। চায়ের কাপে আড্ডা, গল্প আর হাসিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। মেলায় মাছের দোকানের পাশাপাশি রয়েছে নানা রকমের জিনিসপত্রের দোকানও।