কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সড়ক নির্মাণের অভিযোগে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিএসএফ দাবি করছে, ভারতের অংশের এই সড়ক ব্রিটিশ আমলের এবং নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে না, শুধু মেরামত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানাচ্ছে, মেরামতের নামে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে।
এই বিরোধের মধ্যে গতকাল সোমবার বিকেলে দুই বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নং ৯৩৪-এর ১ নম্বর সাব-পিলারের পাশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বাংলাদেশি পক্ষের নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে বিএসএফের তৃতীয় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কে. কে. রাও নেতৃত্ব দেন।
উভয় পক্ষের পাঁচজন করে প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিজিবির পক্ষে ছিলেন শিমুলবাড়ী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার নরেশ চন্দ্র রায়, বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার তায়েজ উদ্দিন ও একজন স্টাফ অফিসার।
বিএসএফের পক্ষে ছিলেন মেঘ নারায়ণ কুটির কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমারসহ বাকি সদস্য। বৈঠক প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি বিএসএফ সড়কের কাজ শুরু করলে দুই দফা পতাকা বৈঠক হয়েছিল। ১৩ জানুয়ারি পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের আগে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সোমবার জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএসএফ দাবি করেছে—নতুন কোনো সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে না, শুধু মেরামত করা হচ্ছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে, সড়ক প্রশস্ত করা হবে না।
বিজিবি পক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেরামতের নামে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে কি না তা যাচাই করতে বিজিবি ও বিএসএফ যৌথ পরিদর্শন দল গঠন করবে। বিএসএফ লিখিতভাবে আমাদের জানাবে, এরপর আমাদের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা যাচাই করবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, নতুন সড়ক নির্মাণ, সড়ক উঁচু করা বা নতুন কোনো পিলার বা ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিএসএফ এই শর্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি খলিশাকোঠাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলার ৯৩৪-এর ১ নম্বর থেকে ১১ নম্বর সাব-পিলার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ভারতের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-দিনহাটা সড়কের অংশে বিএসএফ কাজ শুরু করে। সীমান্তঘেঁষা এই ভারতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা থেকে ৭০ গজ, ৫০-৬০ গজ এবং ১০০-১২০ গজ দূরে অবস্থিত।
ভারত-বাংলাদেশের ১৯৭৫ সালের যৌথ সীমান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা থেকে উভয় দেশের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো পাকা স্থাপনা করা যায় না। এই নিয়ম অমান্য করার অভিযোগে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়। একাধিক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয় জনগণ লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবির পাশে অবস্থান নেয়।
বিজিবি জানাচ্ছে, সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে।