আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে বিকল্প হিসেবে কিছু নির্বাচনী আসন 'উন্মুক্ত' রাখার কথা ভাবছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) সমঝোতার আলোচনায় থাকা ১১ দল।
দলগুলোর শীর্ষ নেতারা জানান, তিনশ সংসদীয় আসনের মধ্যে এমন আসনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
ডিসেম্বরের প্রথমার্ধ থেকে ১১টি দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শরিক দলগুলোর সূত্র অনুযায়ী, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে গতকাল জামায়াতের নেতারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে বৈঠক করেন। আজ বুধবার জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জামায়াতের সহকারী মহাসচিব এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শরিকদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জামায়াত আমিরসহ দলগুলোর শীর্ষ নেতারা আজ যে কোনো সময় বৈঠকে বসতে পারেন। সেখানে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ বলেন, ধরা যাক, আমরা ২৬০ থেকে ২৭০টি আসনে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলাম, কিন্তু ২০, ৩০ কিংবা ৪০টি আসনে পারলাম না। সে ক্ষেত্রে ওই আসনগুলো উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।
তবে তিনি জানান, কিছু আসন উন্মুক্ত রাখা হলেও ইসলামী দলগুলোর ভোট 'এক বাক্সে' আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এটি কীভাবে সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়, তবে যে দল চাইবে, তারা প্রার্থী দেবে। প্রচারণা শুরুর সপ্তাহখানেক পর সব প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই করা হবে। এরপর যিনি এগিয়ে থাকবেন, তাকে রেখে অন্যরা সরে দাঁড়াবেন।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ আসনে আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি। বাকি পাঁচ কিংবা দশ শতাংশ আসন উন্মুক্ত রাখতে হতে পারে। কারণ, কোথাও দুটি, কোথাও তিনটি দল একই আসন চাইছে। এ ছাড়া বিকল্প নেই। তবে জোট অটুট থাকবে—এটা নিশ্চিত।
এদিকে, আসন বণ্টন প্রক্রিয়ায় জামায়াতের 'কর্তৃত্বমূলক ভূমিকা' নিয়ে জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সবাই বলছে এটি ১১-দলীয় জোট। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা একবারও ১১ দলের যৌথ বৈঠক হতে দেখিনি। এতে আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এনসিপি ও এবি পার্টি মিলে ৫০টি আসন চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৫টি এনসিপির জন্য এবং ১৫টি এবি পার্টির জন্য। পরে দেখি, তারা (জামায়াত) আলাদাভাবে এনসিপি ও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। এতে আমরা আমাদের অসন্তোষ জানাই।
আজ বুধবার দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হতে পারে—এমন আলোচনা থাকলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানান মঞ্জু।
এ বিষয়ে জামায়াত নেতা জুবায়ের বলেন, সবার সঙ্গেই কমবেশি আলোচনা চলছে। আসন ভাগাভাগির জন্য আটটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি আছে। যে তিনটি দল নতুন করে জোটে এসেছে, তাদের প্রতিনিধি সেখানে নাও থাকতে পারে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সবার সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামি ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) একযোগে আন্দোলন শুরু করে।
তাদের অন্যতম দাবি ছিল—পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজন এবং নির্বাচনের আগে গণভোট।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মকে নির্বাচনী জোটে রূপ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের দুদিন আগে, ২৮ ডিসেম্বর এনসিপি ও এলডিপি জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। পরদিন যোগ দেয় এবি পার্টি।
জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৪০টি আসনে দুই দলের প্রার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে আছেন।
সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রায় ৪৫টি আসন পেতে পারে, যা তাদের ১৫০ আসনের দাবির তুলনায় অনেক কম।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা ও চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করিম এ নিয়ে এখনো অসন্তুষ্ট।
অন্য দলগুলোর মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৫০টি আসন চাইলেও সম্ভাব্য বরাদ্দ ১৩ থেকে ১৫টির মধ্যে সীমিত থাকতে পারে।
একইভাবে, ২৫টির বেশি আসন চাওয়া খেলাফত মজলিস পাচ্ছে পাঁচ কিংবা সাতটি আসন। নেজামি ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন দুটি করে আসন নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে। বিডিপি ও জাগপা একটি করে আসন পেতে পারে।
নতুন শরিক এনসিপি প্রায় ৫০টি আসন দাবি করেছিল। জামায়াতের সঙ্গে ৩০টি আসন নিয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও সেটিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।