কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলশিক্ষার্থীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ট্রাকের পেছনে স্লিপার বাসের ধাক্কায় নাহিদ (৪৬) নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নোয়াবাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন কান্তি দাস জানান, নিহত নাহিদ শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার ছিলেন। তিনি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানার শ্রীরামপুর গ্রামের খতিবুর রহমানের ছেলে।
একই দিনে চট্টগ্রামে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
বোয়ালখালী উপজেলায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কানুনগোপাড়া এলাকায় একটি দ্রুতগতির হায়েস মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী নিহত হয়।
নিহত প্রান্তিকা সরকার মুক্তকেশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ও প্রান্তিকা উত্তর সরকারপাড়ার গণেশ সরকারের মেয়ে।
প্রান্তিকার মা পান্না সরকার বলেন, 'প্রান্তিকা বাড়ির কাছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দিলে সে ছিঁটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।'
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাবেয়া খাতুন জানান, প্রান্তিকাকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং গাড়ি ও চালক শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মিরসরাই উপজেলায় আজ দুপুরে বড়ইয়ারহাট–রামগড় সড়কের বাদামতলা এলাকায় একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। এতে ফাতেমা বেগম (৫৫) নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পুলিশ জানায়, প্রায় ১৫ জন যাত্রী বহনকারী মাইক্রোবাসটি শান্তিরহাট থেকে হিঙ্গুলি ইউনিয়নের ইসলামপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ইজিবাইক ও ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও চারজন।
গতকাল সোমবার বিকেলে বেলতলী–বিন্নাকুড়ি সড়কের ক্লাব মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তৌসিন খালিদ (১৫) কালীগঞ্জ গ্রামের মো. দৌলার ছেলে এবং আমেনাবাকি রেসিডেনশিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
চিরিরবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আহসান হাবীব জানান, এক শিক্ষকের বিদায় উপলক্ষে বিন্নাকুড়ি বাজারে খাবার খেয়ে ইজিবাইকে করে বিদ্যালয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানায়, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তৌসিনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পরিবারের সদস্যরা তাকে দিনাজপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহতরা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।
এই প্রতিবেদনে সহায়তা করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের কুমিল্লা ও দিনাজপুরের সংবাদদাতা ও চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক।
(এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে দ্য ডেইলি স্টারের কুমিল্লা ও ঠাকুরগাঁওয়ের সংবাদদাতা ও চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন)