খালি চোখে মনে হয় এটি চিকিৎসকের চেম্বার। রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, তাদের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দেওয়া হচ্ছে। এমনকি রোগীপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা ভিজিটও। ব্যবস্থাপত্রের প্যাডে নামের আগে 'ডাক্তার' পদবিও লেখা।
কিন্তু এর কোনোটাই আসল না। পুরোটাই ভুয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার তন্তর বাজারে একটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে এই চিত্র পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। কোনো সনদ ছাড়াই চিকিৎসক সেজে রোগী দেখার দায়ে ওই ফার্মেসির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী এ অভিযান পরিচালনা করেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, তন্তর বাজারের নয়ন মেডিকেল হলের মালিক নারায়ণ চন্দ্র পাল নিজেই সিরিয়াল দিয়ে রোগী দেখছিলেন। প্রতি রোগীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ভিজিট নিচ্ছিলেন এবং অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ লিখে দিচ্ছিলেন। অথচ এমবিবিএস তো দূরের কথা, পল্লী চিকিৎসক বা চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কোনো সনদও দেখাতে পারেননি তিনি।
সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী জানান, মিথ্যা পদবি ব্যবহার করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নারায়ণ চন্দ্র পালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।