Thursday, Jan 15, 2026 28°C

Concise and comprehensive global coverage.

General

গত ৩ নির্বাচনের অভিনব পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের

সবশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা হয়েছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরে। প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকেনি, বরং প্রশাসনের হাতে চলে গিয়েছিল।তদন্ত কমিশন জানায়,...

NP
Published: January 13, 2026, 03:44 PM
গত ৩ নির্বাচনের অভিনব পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের

সবশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা হয়েছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরে। প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকেনি, বরং প্রশাসনের হাতে চলে গিয়েছিল।

তদন্ত কমিশন জানায়, '২০১৪-২০২৪ পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।'

 কমিশন বিগত তিন নির্বাচনের সময় দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখেছে।

কমিশন সুপারিশ করেছে, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের স্বার্থে ভবিষ্যতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোর অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের এই কমিশন গতকাল দুপুরের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দিয়েছে এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।'

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, 'দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল। কিছু করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায় সেজন্য যারা যারা জড়িত ছিল তাদের চেহারাগুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল সেটা জানতে হবে। নির্বাচন ডাকাতি আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।'

গত বছরের ২৫ জুন গঠিত কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব শামীম আল মামুন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক (সুপণ); আইনজীবী তাজরিয়া আকরাম হোসেন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকি ১৪৭টি আসনে তথাকথিত 'প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক' ভোট হয়, যা ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতেই এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে 'প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক' করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

তদন্ত কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়।

২০২৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না দেওয়ায় 'ডামি' প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে 'প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক' করার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি অনিয়মে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারি যুক্ত থাকায় এবং তদন্ত কমিশনের জন্য বরাদ্দকৃত সময় অপ্রতুল হওয়ায় সুনির্দিষ্টভাবে এদের নাম ও কার কী ভূমিকা ছিল তা বের করা সম্ভব হয়নি।

গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরপরই তিনটি নির্বাচনের জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, একটি বৃহত্তর, দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দল ইচ্ছামত ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাকে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখেছিল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় তারা (ক্ষমতাসীন দল) বেছে বেছে অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ করেছিল। কমিশন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি বরং নির্বাচনের সময় আমলাতান্ত্রিক নির্দেশনা অনুসরণ করেছিল।

শামীম হাসনাইন বলেন, অনেক যোগ্য বিসিএস কর্মকর্তা ছিলেন, কিন্তু তাদের সরিয়ে রাখা হয়েছিল এবং মাত্র কয়েকজন অনুগত কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

কম সময়, অপর্যাপ্ত তথ্য

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের পরিধি বিবেচনায় কমিশনের কাজ শেষ করতে অন্তত পুরো এক বছর সময় লাগত। 'চার মাসের সময়সীমার কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাপকভাবে তদন্ত পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।'

এদিকে, প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবও প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।

২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর ইসি সচিবালয় পরিকল্পনা কমিশন এলাকা থেকে আগারগাঁওয়ে নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০১৪ সালের বেশিরভাগ নির্বাচনী নথি এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, ইসির দুর্বল নথিপত্রের কারণে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য এবং নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

জুলাই আন্দোলনের পর প্রার্থীসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অনেক ব্যক্তি পলাতক থাকায় তাদের কথাও শোনা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনসহ ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের অনিয়মের বিস্তারিত তদন্ত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

যেসব কর্মকাণ্ড নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে

নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলুষিত করা হয়েছে, এমন একাধিক কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিশন। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে— 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল; নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ ও নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মনোনীত একটি অংশকে ব্যবহার।

ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ; বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের, একতরফাভাবে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ।

বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের অজামিনযোগ্য মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও গুম; প্রার্থীদের ভয়ভীতি, প্রলোভন দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার।

জাল ভোট প্রদান; নির্বাচনী কারচুপিতে নির্বাহি বিভাগকে ব্যবহার; ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো; ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশে বাধা; অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সংসদীয় সীমানা নির্ধারণ।

আগে থেকেই ব্যালট বাক্সে ভোট ভরে রাখা; ভোট প্রদানের হারে পরিবর্তন; নির্বাচনের পরে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি পরিসংখ্যান প্রকাশ না করা; নির্বাচনের পরে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য ধ্বংস করা।

নির্বাচনী অভিযোগ সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করা; নির্বাচনে ডামি প্রার্থী দাঁড় করানো; বিরোধী রাজনৈতিক দলে ভাঙনের চেষ্টা; নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ নিবন্ধনে পক্ষপাতিত্ব; রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনে বৈষম্য এবং নির্বাচনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। 

সুপারিশমালা

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইন প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে হবে। সংবিধান ও আইনে আলাদা সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠন করে সীমানা নির্ধারণের পুরো ক্ষমতা সেখানে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন শুধু প্রশাসনিক সমন্বয় করবে।

নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতার একটি ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যেন কমিশন স্বেচ্ছাচারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে না পারে। এজন্য একটি স্থায়ী নির্বাচন তদন্ত কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের কমিশন গঠনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার মাত্রা যাতে কোনোভাবেই খর্ব না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, স্বচ্ছতার জন্য ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত দলগুলোকে পুনরায় যাচাই করতে হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন কার্যক্রমে সব গোয়েন্দা সংস্থাকে দূরে রাখতে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। আদালতের হস্তক্ষেপে নিবন্ধন বন্ধ করার জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।

নির্বাচনের সকল কার্যক্রমে সব গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা বন্ধ করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন কাজে তাদের সহায়তা গ্রহণ প্রয়োজনীয় মনে করে, তা হলে তা নিতে পারবে এ ধরনের বিধান প্রণয়ন করতে হবে। সব গোয়েন্দা সংস্থার কাজে স্বচ্ছতা আনা জরুরি যেন ভবিষ্যতে এসব সংস্থা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসন ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তাকে ইসি সচিবালয়ে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রিটার্নিং ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কমিশনের কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডার থেকে নিয়োগ করতে হবে। 

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক সরাসরি ভোটকেন্দ্রে কারো অনুমতি না নিয়েই প্রবেশ করতে পারবেন। কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ, ছবি তোলা এবং ভিডিও ধারণ করতে পারবেন, তবে কোনোক্রমেমেই গোপন কক্ষের ভেতরের ছবি ধারণ করতে পারবেন না। তবে গোপন কক্ষে কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সে ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারবেন।