চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষোভ শুরু করেছেন দলটির সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ডাবলুর মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।'
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রাত ১২টা ১৬ মিনিটে ডাবলুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।'
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর স্বামীর মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী জেসমিন নাহার। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেনাবাহিনী তাকে ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে।'
স্থানীয় শ্রমিক নেতা শফিকুল ইসলাম খোকা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে ডাবলুর একটি ফার্মেসি রয়েছে। গতরাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে সেখান থেকে তুলে ৫০ মিটার দূরে বিএনপির দলীয় অফিসে নিয়ে যান সেনাসদস্যরা।
আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি দলীয় অফিসের ওই কক্ষ সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, 'এখানেই ডাবলু ভাইকে দুই ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।'
রুমের ভেতর পড়ে থাকা একটি কাপড়ের টুকরা দেখিয়ে তিনি বলেন, 'এই কাপড় মুখে ঢুকিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়।'
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, 'সেনা কর্মকর্তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা অভিযান চালিয়ে ডাবলুর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করেন।'
এসপি আরও বলেন, 'তারা (সেনা কর্মকর্তা) আমাকে জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডাবলু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি মূলত সেনা হেফাজতেই মারা গেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।'
এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, 'বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলু হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।'
'তবে সাধারণ মানুষের দাবি এটা হত্যাকাণ্ড। লাশের সুরতহাল হয়েছে, ময়নাতদন্ত হবে। আমরা তদন্ত করে দেখব। যদি হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়, তাহলে সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে জানাব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য', বলেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি ঘটনাস্থলে আছি। এখানকার কাজ শেষ করে পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলব।'
ঘটনার পর বিক্ষোভকারীরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে দেন এবং হাসপাতালের প্রধান ফটক অবরোধ করে সেনা সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে উত্তেজিত জনতার উদ্দেশে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, 'মরদেহের ময়নাতদন্ত করে দেখা হবে এটা হত্যাকাণ্ড কি না। অপরাধ করলে সবাইকে শাস্তি পেতে হবে।'