আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির তৃতীয় দিনের কার্যক্রম চলছে।
দিনব্যাপী শুনানির প্রথম অধিবেশন আজ সোমবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে এবং ১১টা ১৫ মিনিটের পর পর্যন্ত চলে।
প্রথম অধিবেশনে ইসি মোট ২৪টি আপিলের শুনানি করেছে। এর মধ্যে ১৫টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, ছয়টি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি আপিল পরবর্তী শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দাখিল করা মোট দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন।
পরে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৪৫টি আপিল দাখিল করা হয়। ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া আপিল শুনানি আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি সদর দপ্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশনে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ছয়টি বাতিল
নাটোর-২ আসনে এনপিপি প্রার্থী জি এ এ মুবিন সরকারি কর্মচারী ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর এখনো তিন বছর পার না হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিনের মনোনয়ন ৯৭ হাজার ৯৯১ টাকা খেলাপি ঋণ থাকার কারণে বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একেএম ফজলুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে কারণ তার মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে।
ফেনী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে কারণ তিনি প্রয়োজনীয় এক শতাংশ সমর্থকের সই সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন।
খাগড়াছড়িতে গণ অধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে কারণ তার নামে ২২ হাজার ৭০০ টাকা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া রয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিলা ফারজানার আপিল দায়ের হিসেবে গণ্য হয়নি।
মানিকগঞ্জ-২ আসনে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যুক্তিতর্কের পর জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নানের আপিল শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে।
পাবনা-২ আসনে গণ ফোরামের প্রার্থী শেখ নাসির উদ্দিনের আপিল শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে।