Thursday, Jan 15, 2026 28°C

Concise and comprehensive global coverage.

General

কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় ‘মাজার জিয়ারত’ করতে পারলেন না বাংলাদেশি ভক্তরা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তের শূন্যরেখায় দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজার জিয়ারত করতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বাংলাদেশি ভক্তরা। আজ শনিবার ওই সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কড়া নজরদারির কারণে শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থিত মাজারের কাছ পর্যন্ত যেতে পারেননি ভক্তরা।প্রতি বছর ১০ জানুয়ারি এ মাজারে জিয়ারত করেন ভক্তরা। এদিন সেখানে মেলাও আয়োজন করা হয়।কিন্তু মাজারটি ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত হওয়ায় এ বছর বাংলাদেশি ভক্তদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।&nb...

NP
Published: January 11, 2026, 09:28 PM
কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় ‘মাজার জিয়ারত’ করতে পারলেন না বাংলাদেশি ভক্তরা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তের শূন্যরেখায় দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজার জিয়ারত করতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বাংলাদেশি ভক্তরা। 

আজ শনিবার ওই সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কড়া নজরদারির কারণে শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থিত মাজারের কাছ পর্যন্ত যেতে পারেননি ভক্তরা।

প্রতি বছর ১০ জানুয়ারি এ মাজারে জিয়ারত করেন ভক্তরা। এদিন সেখানে মেলাও আয়োজন করা হয়।

কিন্তু মাজারটি ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত হওয়ায় এ বছর বাংলাদেশি ভক্তদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। 

তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত নারী-পুরুষ মাজার জিয়ারত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাখারজান সীমান্ত ঘেঁষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামে দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজারটি অবস্থিত। 

এটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪১-এর সাব পিলার ১এস থেকে ৫এস-এর মধ্যবর্তী জিরোলাইনের পাশে অবস্থিত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ২০০ বছর আগে আরব থেকে আগত দরবেশ কছিমুদ্দিন ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আসেন। পরে তার মৃত্যু হলে তাকে ওই স্থানে দাফন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ১০ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকীতে সীমান্তের দুই পাড়ের ভক্তরা মাজার জিয়ারত করে আসছেন।

মাজার জিয়ারতের দিনটি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মিলনমেলায় রূপ নিত। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে এই আয়োজন পরিচালনা করত বলেও জানান স্থানীয়রা।

নাখারজান সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন (৭৫) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ছোট থেকেই প্রতিবছর দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজার জিয়ারত করে আসছি। এবার মানতও ছিল। কিন্তু বিএসএফ কড়া পাহারা থাকায় বিজিবি আমাদের যেতে দেয়নি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ফিরে আসতে হয়েছে।'

একই গ্রামের আব্দুল জব্বার (৭০) বলেন, 'কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পর মাজার পরিচালনার দায়িত্ব ভারতীয়দের হাতে চলে যায়। এত বছর জিয়ারত করেছি, কিন্তু এবার অনুমতি মেলেনি। মানত দিতে না পারায় খুব কষ্ট লাগছে। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল।'

ফুলবাড়ী থেকে আগত ভক্ত মনিরুজ্জামান সরকার (৬৫) জানান, বাংলাদেশে এই মাজারের ভক্তের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। তিনি বলেন, 'প্রতিবছর মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি ভারতের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হতো, উপহার আদান-প্রদান চলত। এবার সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে।'

দরবেশ কছিমুদ্দিন মাজার জিয়ারত কমিটির সভাপতি ও ভারতের বাসিন্দা আব্দুল জলিল মুঠোফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিএসএফের বাধার কারণে এবার বাংলাদেশি ভক্তরা মাজার প্রাঙ্গনে প্রবেশ করতে পারেননি। সকাল থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে জিয়ারত শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশি ভক্তরা না আসায় আমাদেরও খুব খারাপ লেগেছে।'

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের গঙ্গারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার লিটন মিয়া জানান, বিএসএফ আগে থেকেই বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোয় সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়। তাই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ভক্ত এলেও জিরোলাইনের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি।