শরীয়তপুরে খালেদা জিয়ার জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে আওয়ামী লীগ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) তিন শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার বুড়িরহাটে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। এতে শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম এবং শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী ও তারেক রহমানের একান্ত সচিব নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নুরুদ্দিন অপু বলেন, 'শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইনশা আল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর বিএনপি সরকার গঠন করবে। আমরা দল-মত-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে একটি শান্তিময় এবং অহিংস শরীয়তপুর গড়ে তুলব।'
যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে অপু বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রুদ্রকর ইউপির সদস্য মজিবর রহমান খোকন বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে যোগ দিলেন। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রেজাউল করিমের নেতৃত্বে এনসিপির যুবশক্তি ও বিজেপির শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মজিবর রহমান খোকন বলেন, 'বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমি নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত ছিলাম। তাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে দল থেকে পদত্যাগ করে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে বিএনপিতে যোগ দিলাম।'
এনসিপির যুবশক্তির শরীয়তপুর জেলা শাখার মুখ্য সংগঠক রেজাউল করিম বলেন, 'এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের যে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল, তা তারা সফল করতে পারেনি। তাই আমি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দিলাম।'
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সবুজ তালুকদার বলেন, 'রেজাউল করিমের বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। তিনি মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে কিছু জানাননি। ব্যক্তিগত স্বার্থেই তিনি এটি করে থাকতে পারেন। পদত্যাগপত্র জমা না দিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
বিজেপির যুবশক্তির শরীয়তপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব মো. সিয়াম বলেন, নুরুদ্দিন অপুর আদর্শ ও জিয়াউর রহমানের রাজনীতিতে মুগ্ধ হয়ে আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।