'বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছি' বলে ওসিকে হুমকি দেওয়া ছাত্রনেতা মাহদী হাসানকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ওই নেতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে মাহদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে সংগঠনের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এনামুল হাসান নয়ন নামে একজনকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আটক করলে শুক্রবার বিকেলে তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী।
পুলিশের সূত্র জানায়, নয়নের মুক্তি দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের কর্মীরা শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে থানার সামনে অবরোধ করে।
ওসির কক্ষে ঢুকে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, 'আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?'
দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। পরে বিকেল ৩টার দিকে নয়নকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তার এই বক্তব্যের সময় পাশে থাকা অন্য তরুণদের নীরব থাকতে দেখা যায়। পুলিশ কর্মকর্তারাও চুপ করে তার ওই কথাগুলো শুনছিলেন।
পরে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে দেশব্যাপী আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'একজনকে আটকের পর যা হয়েছে, তা দেশবাসী দেখেছে। ফেসবুক ও ইউটিউবে সবার হাতে হাতে সে ভিডিও প্রচার হয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ অপরাধ করে থাকলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিষয়টি তদন্তাধীন, আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাহদী হাসান নিজেই স্বীকার করেছেন পুরো ঘটনা। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওইদিন থানায় আটকে পড়া পুলিশ সদস্য এসআই সন্তোষকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ভিডিওতে ওই তরুণ মূলত সেই ঘটনারই সরাসরি দায় স্বীকার করেছেন। ভিডিওতে পুরো ঘটনা বলা হয়েছে। এরপর আমার আর কিছু বলার নেই।'